আপনি এই ট্যাবলেট শুরু করার আগে: কম্বাইন্ড পিল খাওয়া শুরু করার সময় যদি নিম্নে বর্ণিত যে কোন একটি অবস্থায় থাকেন তবে আপনার প্রতি বিশেষ নজর দেয়া উচিত। আপনার ডাক্তার বিষয়টির ভাল ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। এই সব অবস্থায় আপনি থাকলে এই ট্যাবলেট শুরু করার পূর্বে ডাক্তারকে বিষয়টি খুলে বলুন।
- আপনি ধুমপান করেন;
- আপনার ডায়াবেটিস আছে;
- আপনার ওজন বেশী;
- আপনার উচ্চ রক্তচাপ আছে;
- আপনার হৃদপিন্ডের ভালভে জটিলতা আছে কিংবা হৃদস্পন্দনের সমস্যা আছে;
- আপনার শিরায় কোন প্রদাহ (সুপারফিসিয়াল ফ্লেবাইটিস) আছে;
- আপনার ভেরিকোজ ভেইন আছে;
- আপনার নিকট আত্মীয়ের কারো থ্রম্বসিস বা হার্ট এটাক আছে বা স্ট্রোক হয়েছিল;
- আপনার মাইগ্রেনের ব্যাথা আছে;
- আপনার মৃগি রোগ আছে;
- আপনি বা আপনার নিকট আত্মীয়ের কারো রক্তের কোলেষ্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড এর মাত্রা যথেষ্ট বেশী (চর্বিজাতীয় পদার্থ) আছে বা ছিল;
- আপনার নিকট আত্মীয়ের কারো স্তন ক্যান্সার ছিল;
- আপনার যকৃত (লিভার) বা পিত্ত থলির (গলব্লাডার) রোগ আছে;
- আপনার ক্রন্স ডিজিজ বা আলসারেটিভ কোলাইটিস (ক্রনিক ইনফ্লামেটরী বাওয়েল ডিজিজ) আছে;
- আপনার সিসটেমিক লুপাস এরিদম্যাটোসাস (এসএলই; সারা দেহের ত্বকের জটিলতা) আছে;
- আপনার হিমোলাইটিক ইউরেমিক সিন্ড্রোম (একটি রক্ত জমাট বাধাজনিত কিডনি ফেইলিওর রোগ) আছে;
- আপনার সিকল সেল ডিজিজ আছে;
- আপনার ক্লোসমা (ত্বকে, বিশেষ করে মুখে খয়েরী-হলুদাভ ছোপ) পূর্বে ছিল বা বর্তমানে আছে, যদি থাকে তবে উন্মুক্ত সূর্যালোকে যাবেন না বা অতিবেগুনী রেডিয়েশনের সম্মুখীন হবেন না।
পিল খাবার সময় প্রথমবার উপরের যে কোন অবস্থায় আক্রান্ত হলে, আবার দেখা দিলে বা বেড়ে গেলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
পিল ও থ্রম্বসিস: থ্রম্বসিস হল রক্ত জমাট বেধে রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া। পায়ের গভীর শিরায় কখনও থ্রম্বসিস দেখা যেতে পারে (ডিপ ভিনাস থ্রম্বসিস)। এই জমাট রক্তের টুকরো জমাট বাঁধার স্থান থেকে ভেঙে ফুসফুসে পৌঁছে ধমনীর গতিপথ বন্ধ করে দিতে পারে, এর ফলে তথাকথিত "পালমোনারী এম্বলিজম" এর সৃষ্টি হয়। ডিপ ভিনাস থ্রম্বসিস সচরাচর হয় না। এ অবস্থা আপনি পিল খান বা নাই খান হতে পারে। আপনি গর্ভবতী হলেও এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। যারা পিল খান না তাদের চেয়ে যারা পিল খান তাদের এতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি, কিন্তু গর্ভকালীন অবস্থার ঝুঁকির চেয়ে বেশি নয়।
খুব অল্প ক্ষেত্রে রক্তের দানা বাঁধতে পারে হৃদপিন্ডের রক্তনালিতে (হৃদরোগ দেখা দেয়) বা মস্তিস্কে (এতে ষ্ট্রোক হয়)। যকৃতে, খাদ্যনালীতে, কিডনীতে ও চোখে রক্ত দানা বাঁধে না বললেই চলে।
কদাচিৎ, থ্রম্বসিস ভয়াবহ দৈহিক অক্ষমতার সৃষ্টি করতে পারে, অনেক সময় তা মারাত্মকও হতে পারে।
হার্ট এটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় যখন আপনার বয়স বাড়তে থাকবে। এই ঝুঁকি আরও বাড়বে যদি আপনি ধূমপান করেন। আপনি পিল খেতে আরম্ভ করলে ধূমপান বন্ধ করুন, বিশেষ করে আপনার বয়স ৩৫ বৎসরের বেশি হয়ে গেলে।
পিল খাওয়াকালীন আপনার উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিলে আপনাকে পিল খাওয়া বন্ধ করতে বলা হতে পারে।
আপনার অস্ত্রোপচার হলে বা আপনার পায়ে প্লাষ্টার বা স্প্লিন্ট বাঁধার কারণে চলাচলের অক্ষমতা হলে অস্থায়ীভাবে ডিপ ভিনাস থ্রম্বসিস হবার ঝুঁকি বাড়তে পারে। যে সকল মহিলা পিল খান, এসব জটিলতার ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। হাসপাতালে ভর্তি বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে পূর্বেই আপনার ডাক্তারকে জানান যে আপনি পিল খাচ্ছেন। আপনার ডাক্তার অস্ত্রোপচারের কয়েক সপ্তাহ আগে বা যখন আপনার চলাফেরা বন্ধ হবে তখন পিল খাওয়া বন্ধ করেও দিতে পারে।
হাঁটাচলা আরম্ভ করার পর কখন আপনি আবার পিল খাওয়া আরম্ভ করবেন তা আপনার ডাক্তার আপনাকে বলে দেবেন।
থ্রম্বসিস হওয়ার সম্ভাব্য সংকেতগুলি আপনার নজরে এলে পিল খাওয়া বন্ধ করুন ও সাথে সাথে ডাক্তারকে জানান।
পিল ও ক্যান্সার: যে সকল মহিলা পিল খান তাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা একই বয়সের যে সকল মহিলা পিল খান না তাদের চেয়ে কিছুটা বেশি। স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনার হারের এই স্বল্প বৃদ্ধি পিল খাওয়া বন্ধ করার পর থেকে দশ বৎসরের মধ্যে চলে যায়। এই পার্থক্য পিল খাওয়ার কারণে কি না তা সঠিকভাবে জানা যায় নাই। এমনও হতে পারে যে মহিলাদের ঘন ঘন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়, আর এই কারণে স্তন ক্যান্সার আগেই ধরা পড়ে।
পিল ব্যবহারকারীদের মধ্যে অল্প কিছু অবস্থায় যকৃতের বিনাইন টিউমার এবং আরও বিরলভাবে ম্যালিগ্ল্যান্ট লিভার টিউমার দেখা দেয়। এই সকল টিউমারের কারণে আভ্যন্তরীণ রক্ত ক্ষরণ হতে পারে। আপনার পাকস্থলিতে তীব্র ব্যাথা হলে তৎক্ষণাৎ আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
যে সব মহিলা দীর্ঘকাল পিল সেবন করেন তাদের সার্ভাইকাল ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে এই সকল ক্যান্সার পিল সেবনের কারণে না হয়ে যৌন আচরণ বা অন্য কোন কারণের জন্যও হতে পারে।
পিল ও অন্যান্য ওষুধ: কোন কোন ওষুধ খেলে পিলের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। এ সকল ওষুধের মধ্যে মৃগী রোগে ব্যবহৃত ওষুধ, (যেমন- প্রিমিডোন, ফিনাইটইন, বার্বিচুরেট), যক্ষা (যেমন-রিফামপিসিন) এবং অন্য কিছু ছোঁয়াচে রোগের জন্য ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক (যেমন- এম্পিসিলিন, টেট্রাসাইক্লিন, গ্রিসিওফুলভিন)। যে ডাক্তার আপনাকে পিল খেতে বলেছেন তাকে বলুন আপনি সম্প্রতি কি ওষুধ খাচ্ছেন। অন্য কোন ডাক্তার বা ডেন্টিস্ট (বা ফার্মাসিস্ট) আপনাকে কোন ওষুধ দিলেও তাকে বলুন যে আপনি এই ট্যাবলেট খাচ্ছেন। আপনার অন্য কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন হবে কি না, হলে কতদিন, তা তারা আপনাকে জানাবেন।
পিল ও গাড়ি চালনা: পিল খাওয়ার সাথে গাড়ি চালনায় কোন বিরূপ প্রভাব নেই।