গ্লিমেপিরাইডের জন্য:
গ্লিমেপিরাইড সাইটোক্রোম পি৪৫০ সি৯ (সিওয়াইপি২সি৯) দ্বারা মেটাবলিজম হয়। এটা তখনই বিবেচনায় আনা উচিৎ যখন গ্লিমেপিরাইড সিওয়াইপি২সি৯ এর ইনডিউসারস (যেমন রিফামাপিসিন) অথবা (সিওয়াইপি২সি৯) ইনহিবিটিরস (যেমন ফ্লোকোনাজল) এর সাথে একত্রে প্রয়োগ করা হয়।
উল্লিখিত ওষুধগুলোর যেকোন একটি সাথে ওষুধটি গ্রহণ করা হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে এবং এইভাবে কিছু হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঘটনা ঘটতে পারে যেমন: ইনসুলিন এবং অন্য মুখে সেব্য এ্যান্টিডায়াবেটিকস/ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণের ওষুধ; এসিই ইনহিবিটরস/প্রতিবন্ধক; এ্যানাবলিক স্টেরয়েডস এবং পুরুষদের জন্য ব্যবহৃত সেক্স হরমোন; ক্লোরামফেনিকলস; কিউমারিন ডেরিভেটিভস, সাইক্লোফসফমাইড; ডাইসোপাইরামাই; ফেনফ্লোরামাইন; ফিনাইরামিডল; ফাইব্রেটস, ফ্লুক্সেটিন; গুয়ানেথিডিন, আইফোসফামাইড; এমএও ইনহিবিটিরস; মাইকোনাজল; ফ্লুকোনাজল; প্যারা-এ্যামিনোস্যালিসাইলিক এসিড; পেনটোক্সিফাইলিন (অধিক মাত্রায় প্যারেনটের্যাল [শিরা বা ধমনীতে] প্রয়োগ); ফিনাইলবিউটাজোন; এ্যাজাপ্রোপাজোন; অক্সিফেন-বিউটাজোন; প্রোবোনেসিড, কুইনোলনস; স্যালিসাইলেটস; সালফিন-পাইরাজোন; ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন; সালফোনামাইড এ্যান্টিবায়োটিকস; টেট্রাসাইক্লিনস; ট্রাইটোকুয়ালিন; ট্রোফোসফামাইড।
রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রভাব দুর্বল হতে পারে এবং এইভাবে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে যখন উল্লিখিত ওষুধগুলোর যেকোন একটির সাথে গ্রহণ করা হয়, যেমন; এসিটাজোলামাইড; বারবিচুরেটস; কোর্টিকোস্টেরয়েডস; ডাইএজোক্সাইড; মূত্রবর্ধক; এপিনেফরিন (এ্যাড্রেনালিন) এবং অন্য সিমপ্যাথোমাইমেটিক উপাদানসমূহ; গ্লুকাগন ল্যাকজেটিভস (দীর্ঘায়িত ব্যবহারের পরে); নিকোটিনিক এসিড (অধিক মাত্রায়); ইসট্রোজেনস এবং প্রোজেস্টেরনস; ফেনোথায়াজিনস; ফিনাইটোইন; রিফামপিসিন; থাইরয়েড হরমোনস।
এইচ২ রিসিপ্টর এ্যান্টাগোনিস্টস, বিটা-ব্লকারস, ক্লোনিডিন এবং রিসারপাইন এর সাথে প্রয়োগে রক্তে গ্লুকোজের পরিমান কমে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে অথাব কমে যেতে পারে। সিমফ্রাথোলাইটিক ওষুধ যেমন বিটা-ব্লকারস, ক্লোনিডিন, গোয়ানিথিডিন এবং রিসারপাইন এর প্রভাবে, হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে গ্লুকোজের
পরিমাণ কমে যাওয়া) থেকে এ্যাড্রেনার্জিক এর বিপরীত নিয়ন্ত্রণের উপসর্গ কমতে অথবা অনুপস্থিত হতে পারে।
তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী উভয় ধরনের এ্যালকোহল গ্রহণে গ্লিমেপিরাইড এর রক্তে গ্লুকোজের পরিমান কমানোর কার্যকারিতা অনির্দেশিত ভাবে বেড়ে যেতে অথবা কমে যেতে পারে।
কিউমারিন ডেরিভেটিভস এর প্রভাবে এর কার্যকারিতা বেড়ে যেতে অথবা কমে যেতে পারে।
বাইল এসিড সিকোয়েস্টটেরান্ট: কোলোসভেলাম গ্লিমেপিরাইডকে আবদ্ধ করে এবং পরিপাকতন্ত্রে গ্লিমেপিরাইড এর শোষণ কমায়। তাই কোলেসভেলাম গ্রহণের ৪ ঘন্টা পূর্বে গ্লিমেপিরাইড প্রয়োগ করা উচিত।
মেটফরমিনের জন্য: নিম্নলিখিত উপাদানের সাথে যৌথ ব্যবহার নির্দেশিত নয়-
এ্যালকোহল: এ্যালকোহল এর নেশা ল্যাকটিক এসিডোসিস (শরীরে ল্যাকটেক এর পরিমাণ বৃদ্ধি) এর ঝুঁঁকি বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত, বিশেষ করে অধিক সময় ধরে অনাহারে থাকলে, অপুষ্টি অথবা যকৃত অকার্যকারিতার ক্ষেত্রে। তাই এ্যালকোহল এবং এ্যালকোহল সম্বলিত ওষুধসমূহ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
আয়োডিনযুক্ত কন্ট্রাস্ট উপাদান প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইমেজিং প্রক্রিয়া শুরুর পূর্বে অথবা শুরুর সময় মেটফরমিন প্রত্যাহার করা উচিত এবং পরবর্তী ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত ও কিডনীর কার্যকারিতা পুন:বিবেচনার পরে তা স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত পুনরায় আয়োডিনযুক্ত কন্ট্রাস্ট উপাদান প্রয়োগ করা উচিত নয়।
সম্বনিত প্রয়োগে প্রয়োজনীয় পূর্বসতর্কতার ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ জাতীয় উপাদান বিপরীতভাবে কিডনীর কার্যকারিতা প্রভাবিত করতে পারে যা ল্যাকটিক এসিডোসিস (শরীরে ল্যাকটেট এর পরিমাণ বৃদ্ধি) এর ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। এই সমস্ত উপাদানের সাথে সমন্বিতভাবে মেটফরমিন দিয়ে চিকিৎসা শুরু অথবা প্রয়োগকালে কিডনীর কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। গ্লুকোকর্টিকোস্টেরয়েড, বিটা-২ এ্যাগোনিস্ট এবং মূত্রবর্ধকসমূহের হাইপারগ্লাইসেমিক কার্যকারিতার স্বক্রিয়তা আছে। এজন্য নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ নির্দেশিত। এসিই ইনহিবিটরস/প্রতিবন্ধক রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমাতে পারে। মেটফরমিন ফেনপ্রকিউমনের রক্তজমাটবাঁধা রোধকারী ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে। তাই রোগীর আইএনআর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। লেভোথাইরক্সিন মেটফরমিনের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমানোর (হাইপোগ্লাইসেমিক) সক্রিয়তা কমাতে পারে। এক্ষেত্রে রক্তে গøুকোজের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ নির্দেশিত, বিশেষ করে যখন থাইরয়েড হরমোন দ্বারা চিকিৎসা শুরু করা অথবা বন্ধ করা হয় এবং যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে মেটফরমিনের মাত্রা অবশ্যই সমন্বয় করতে হবে।
অর্গানিক ক্যাটায়নিক ট্রান্সপোর্টারর্স (ওসিটি): মেটফরমিন ওসিটি১ এবং ওসিটি২ উভয় বহনকালী একটি উপাদান। মেটফরমিনের সাথে যৌথভাবে প্রয়োগে-
- ওসিটি১ এর প্রভাব বৃদ্ধিকারী উপাদান (যেমন-রিফামপিসিন) পরিপাকতন্ত্রে মেটফরমিনের শোষন এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে পারে।
- ওসিটি১ ইনহিবিটরস/প্রতিবন্ধক (যেমন-সিমিটিডিন, ডলুটেগ্রাভির, রেনোলাজিন, ট্রাইমিথোপ্রিম, ভেনডেটানিব, ইসাভুকোনাজল) কিডনী দিয়ে মেটফরমিনের নি:সরণ হ্রাস করতে পারে এবং সেজন্য রক্তের প্লাজমায় মেটফরমিনের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।
- ওসিটি১ এবং ওসিটি২ উভয় ইনহিবিটরস/প্রতিবন্ধক (যেমন-ক্রিজোটিনিব, ওলাপারিব) মেটফরমিনের কার্যকারিতা এবং কিডনী দিয়ে মেটফরমিনের নি:সরণ এর পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
এসব ওষুধের সাথে মেটফরমিনের সমন্বিত প্রয়োগকালে রক্তে মেটফরমিনের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেতে পারে তাই বিশেষভাবে কিডনীর সমস্যা রয়েছে এমন রোগীর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলন্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়। যেহেতু ওসিটি ইনহিবিটরস (প্রতিবন্ধক) প্রভাব বৃদ্ধিকারী উপাদান মেটফরমিনের কার্যকারিতা পরিবর্তন করতে পারে তাই প্রয়োজনে মেটফরমিনের মাত্রা সমন্বয় করতে হবে।