মুখে সেবনযােগ্য কিটোপ্রােফেন জাতীয় ওষুধসমূহ প্রয়ােগের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ওষুধের সাথে সিলেক্টিভ সাইক্লোঅক্সিজেনেস-২ ইনহিবিটর সমূহ সহ অন্যান্য এনএসএআইডিস নির্দেশিত নয়: (ব্যথানাশক ওষুধ) এবং অধিক মাত্রার স্যালিসাইলেটস যা পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ, আলসারের এর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট সমূহ: যা রক্তক্ষরণ এর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
- হেপারিন
- ভিটামিন কে অ্যান্টাগােনিষ্ট (যেমন- ওয়ারফারিন)
- প্লেটেলেট অ্যাগ্রেগেশন ইনহিবিটর (যেমন- টিক্লোপিডিন, ক্লোপিডােগ্রেল)
- গ্লোম্বিন ইনহিবিটর (যেমন- ডাবিগাট্রিন)
- ডাইরেক্ট ফ্যাক্টর এক্সএ ইনহিবিটর (যেমন- এপিক্সাব্যান, রিভারােক্সাব্যান, এডােক্সাব্যান)
যদি সমন্বিত চিকিৎসা অপরিহার্য হয় সেক্ষেত্রে রােগীকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিৎ।
- লিথিয়াম: রক্তে লিথিয়ামের পরিমাণ বৃদ্ধির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। কারণ কিডনির মাধ্যমে লিথিয়ামের নির্গমন কমে যাওয়ার ফলে কিছু ক্ষেত্রে এটি বিষক্রিয়ার মাত্রা অতিক্রম করতে পারে। প্রয়ােজন হলে রােগীর রক্তের লিথিয়ামের পরিমাণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং এনএসএআইডি (ব্যথানাশক ওষুধ) দ্বারা চিকিৎসার সময় ও চিকিৎসার পরে লিথিয়ামের মাত্রা সমন্বয় করা উচিত।
- সপ্তাহে ১৫ মিগ্রা এর অধিক মাত্রার মেথােট্টরেক্সেট ব্যাবহারের ক্ষেত্রে: বিশেষ করে যদি তা উচ্চ মাত্রায় প্রয়ােগ করা হয় (>১৫ মিগ্রা/সপ্তাহ) সেক্ষেত্রে প্রােটিন সংযুক্ত মেথােট্রেক্সটের বিযুক্তির কারণে এবং কিডনির মাধ্যমে মেথােট্রেক্সেটের নির্গমন কমে যাওয়ার ফলে রক্তে মেথােট্রেক্সেটের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
- নিম্নোক্ত ওষুধের সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়ােজন ওষুধসমূহ যা রক্তে পটাশিয়ামের পরিমান বৃদ্ধি করে (যেমন, পটাশিয়াম যুক্ত লবন, যেসব মুত্রবর্ধক পটাশিয়াম ধরে রাখে, এসিই ইনহিবিটরস এবং এ্যানজিওটেনসিন || এ্যান্টাগনিস্ট, ব্যথানাশক, হেপারিনস্ (নিম্ন আনবিক ওজন বা অখণ্ডিত), সাইক্লোস্পােরিন এবং ট্রাইমেথােপ্রিম): যখন এসব ওষুধ একসাথে ব্যবহার করা হয় তখন রক্তে পটাশিয়ামের পরিমান বেড়ে যেতে পারে।
- কর্টিকোস্টেরয়েড সমূহ: পরিপাকতন্ত্রের আলসারেশন অথবা রক্তক্ষরণ এর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
- ডায়ইউরেটিক (মূত্রবর্ধক) সমূহ: কিটোপ্রােফেন ব্যাবহারে প্রােস্টাগ্ল্যাডিন ইনহিবিশন এর কারণে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে সাধারণ রোগী এবং বিশেষ করে পানিশূন্য রােগী ডায়ইউরেটিক গ্রহণ করলে রেনাল ফেইলিওর এর ঝুঁকি অধিক বৃদ্ধি পায়। এই সমস্ত রােগীর সমন্বিত চিকিৎসা শুরু করার পূর্বে পানিশূন্যতা দূর করতে হবে এবং যখন চিকিৎসা শুরু করা হয় তখন কিডনির কার্যকারীতা পর্যবেক্ষণ করতে হবে
- এসিই ইনহিবিটর সমূহ এবং এ্যানজিওটেনসিন-২ এ্যান্টাগােনিস্টস: কিডনি অকার্যকর রােগীর ক্ষেত্রে (যেমন- পানিশূন্য রােগী অথবা বয়স্ক রােগী) এসিই ইনহিবিটর সমূহ এবং এ্যানজিওটেনসিন-২ এ্যান্টাগােনিস্টস এবং সাইক্লোঅক্সিজিনেস ইনহিবিটকারী উপাদান এর সমন্বিত চিকিৎসার ফলে পুনঃরায় কিডনির কার্যকারীতা হ্রাস পেতে পারে যার ফলে মারাত্বক কিডনি ফেইলিওর এর সম্ভাবনা থাকে।
- সপ্তাহে ১৫ মিগ্রা মাত্রার মেথােট্রেক্সেট প্রয়ােগের এর ক্ষেত্রে: সমন্বিত চিকিৎসার শুরুর দিকে প্রতি সপ্তাহেই রক্ত পরীক্ষার ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা উচিত। যদি কিডনির কার্যকারীতার কোন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় অথবা যদি রােগী অধিক বয়স্ক হয়, সেক্ষেত্রে বারবার পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
- পেনক্সিফাইলিন: এ ক্ষেত্রে রক্তপাত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই এ ক্ষেত্রে আরাে ঘন ঘন ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ এবং কতক্ষণ ধরে রক্তপাত ঘটে তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়ােজন। টেনােফোভির: টেনােফোভির, ডিসােপ্রােক্সিল ফিউমারেট এবং এনএসএআইডি সমূহ (ব্যথানাশক ওষুধ) একত্রে প্রয়ােগ করলে কিডনি ফেইলিওরের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
- নিম্নোক্ত ওষুধের সাথে ব্যাবহারের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা প্রয়ােজন উচ্চ রক্তচাপরােধী ওষুধ যেমন- বিটা-ব্লকার সমূহ, এ্যানজিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম ইনহিবিটর সমূহ, ডায়ইউরেটিক সমূহ: এনএসএআইডি (ব্যথানাশক ওষুধ) দ্বারা ভেসােডাইলেটর প্রােস্টাগ্ল্যানডিন এর ইনহিবিশনের কারণে উচ্চ রক্তচাপরােধী ওষুধ এর কার্যকারীতা কমে যাবার ঝুঁকি থাকে।
- গ্রোম্বালাইটিক সমূহ (রক্ত জমাটরােধী ওষুধ সমূহ): রক্তপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। প্রােবেনিসিড: প্রােবেনিসিড এর সাথে এটির সমন্বিত প্রয়ােগের ফলে কিটোপ্রােফেনের প্লাজমা ক্লিয়ারেন্স উল্লেখ্যযােগ্য হারে হ্রাস পেতে পারে। সিলেক্টটিভ সেরােটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটর সমূহ (এসএসআরআইস): পরিপাকত্ত্রের রক্তপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
- টেনােফোভির: টেনােফোভির, ডিসােপ্রােক্সিল ফিউমারেট এবং এনএসএআইডি সমূহ (ব্যথানাশক ওষুধ) একত্রে প্রয়ােগ করলে কিডনি ফেইলিওরের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
- নিকোরানডিল: যেসকল রােগী নিকোরানডিল ও এনএসএআইডি একত্রে গ্রহণ করে, তাদের ক্ষেত্র পাকস্থলির আলসার, ছিদ্র এবং রক্তক্ষরণের মত গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
- কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইড: কিটোপ্রােফেন এবং ডিগর্সিনের মধ্যে ফার্মাকেোকাইনেটিক মিথস্ক্রিয়া প্রদর্শিত হয় নাই। তথাপি সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে, বিশেষত বৃকের অকার্যকারিতায় আক্রান্ত রােগীদের ক্ষেত্রে, যেহেতু এনএসএআইডি বৃক্কের ক্রিয়া কমিয়ে কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইডের রেনাল ক্লিয়ারেন্স হ্রাস করতে পারে।
- সাইক্লোস্পােরিন: নেফ্রোটক্সিসিটির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
- ট্যাক্রোলিমাস: নেফ্রোটক্সিসিটির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।