রোগের ধরনের উপর ভিত্তি করে মিথাইলপ্রেডনিসােলন প্রতিদিন ২ মি.গ্রা. থেকে ৮ মি.গ্রা. বিভাজিত মাত্রায় সেব্য।
প্রদাহরােধী/ইমিউনােসাপ্রেসিভ হিসেবে প্রারম্ভিক মাত্রা: প্রদাহরােধী/ইমিউনােসাপ্রেসিভ হিসেবে, রোগীর অবস্থার উপর ভিত্তি করে মিথাইলপ্রেডনিসােলন প্রতিদিন ৪-৪৮ মি.গ্রা. বিভাজিত মাত্রায় সেব্য।
তুলনামূলক কম তীব্র অবস্থায় নিম্ন মাত্রা যথেষ্ট, তবে কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে শুরুতে উচ্চমাত্রার প্রয়ােজন হতে পারে। আশানুরুপ ক্লিনিকাল উপকারীতা না পাওয়া পর্যন্ত প্রাবম্ভিক মাত্র চালিয়ে যেতে হবে অথবা সমন্বয় করতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর সন্তোষজনক রেস্পন্স পাওয়া না গেলে মিথাইলপ্রেডনিসােলন বন্ধ করে দিয়ে রোগীকে অন্য কোন কার্যকরী থেরাপী দেয়া উচিৎ। মনে রাখতে হবে যে, মিথাইলপ্রেডনিসােলনের মাত্র ভিন্ন হতে পারে এবং চিকিৎসাধীন রােগ এবং রোগীর রেসপন্স-এর ওপর ভিত্তি করে এটা ঠিক করতে হবে।
প্রদাহরােধী/ইমিউনােসাপ্রেসিভ হিসেবে চলমান মাত্রা: অনুকূল ফল পাবার পর সময়ের সাথে ক্রমান্বয়ে মাত্রা কমিয়ে সর্বনিম্ন সঠিক চলমান মাত্রা ঠিক করতে হবে। মনে রাখা দরকার, ঔষধটির মাত্রার ব্যাপারে অনবরত দেখভাল করতে হবে। লম্বা সময় ধরে ব্যবহারের পর ঔষধটির সেবন বন্ধ করার দরকার হলে, আকস্মিকভাবে তা না কত্রে ধীরে ধীরে করতে হয়।
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস: মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের একিউট এক্সাসারবেশন চিকিৎসায় এক সপ্তাহ যাবৎ প্রতিদিন ১৬০ মি.গ্রা. মিথাইলপ্রেডনিসােলন, এবং এরপর একমাস যাবৎ ৬৪ মি.গ্রা. এক দিন পরপর সেবন কার্যকরী।
মিথাইলপ্রেডনিসােলন ৪ মি.গ্রা. ট্যাবলেট তীব্র এ্যালার্জি এবং চর্মরােগ চিকিৎসা ও প্রতিরোধে নিম্নলিখিত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করা যেতে পায়ে (এতে স্টেরয়ডের উইদড্রয়াল সিন্ড্রোমের ঝুঁকি থাকে না)।
- ১ম দিন: ২ টি ট্যাবলেট (সকালের নাস্তার পূর্বে) +১ টি ট্যাবলেট (দুপুরের খাবারের পর) + ১ টি ট্যাবলেট (রাতের খাবারের পর) + ২ টি ট্যাবলেট (শােবার সময়)।
- ২য় দিন: ১ টি ট্যাবলেট (সকালে নাস্তার পূর্বে) + ১ টি ট্যাবলেট (দুপুরের খাবারের পর) + ১ টি ট্যাবলেট (রাতের খাবারের পর) + ২ টি ট্যাবলেট (শােবার সময়)।
- ৩য় দিন: ১ টি ট্যাবলেট (সকালের নাস্তার পূর্বে) + ১ টি ট্যাবলেট (দুপুরের খাবারের পর) + ১ টি ট্যাবলেট (রাতের খাবারে পর) +১ টি ট্যাবলেট (শােবার সময়)।
- ৪র্থ দিন: ১ টি ট্যাবলেট (সকালের নাস্তার পূর্বে) + ১ টি ট্যাবলেট (দুপুরের খাবারের পর) + ১ টি ট্যাবলেট (শােবার সময়)।
- ৫ম দিন: ১ টি ট্যাবলেট (সকালের নাস্তার পূর্বে) + ১ টি ট্যাবলেট (শােবার সময়)।
- ৬ষ্ঠ দিন: ১ টি ট্যাবলেট (সকালের নাস্তার পূর্বে)।
অল্টারনেট-ডে থেরাপী: অল্টারনেট-ডে থেরাপী হচ্ছে কর্টিকোস্টেরয়েডের এমন মাত্রা যেখানে প্রতিদিনকার সাধারণ মাত্রার দ্বিগুণ মাত্র প্রতি একদিন পরপর সকালে সেব্য। এই ধরনের চিকিৎসা ব্যাবস্থার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যে ধরনের রোগীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্টেরয়েড খাওয়ানাের প্রয়ােজন, কিছু উল্লেখযােগ্য পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া (যেমন পিটুইটারী-এড্রেনাল সাপ্রেশন, কুশিঙ্গয়েড অবস্থা, কর্টিকয়েড উইথড্রয়াল সিন্ড্রোম এবাং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি-প্রতিবন্ধকতা) ছাড়াই তারা যাতা স্টেরয়েডের উপকারিতা ও কার্যকারিতা পেতে পারেন।
অল্টারনেট-ডে থেরাপী বিবেচনাকালে মনে রাখতে হবে-
- কর্টিকোস্টেরয়েড থেরাপীর মূলনীতি ও নির্দেশনা বিবেচনা করা হচ্ছে কিনা।
- অন্টারনেট-ডে থেরাপী হচ্ছে একটি থেরাপিউটিক কৌশল প্রাথমিকভাবে যেটি দীর্ঘমেয়াদে কর্টিকয়েড থেরাপী দরকার এমন রােগীদের জন্য প্রযােজ্য।
- কর্টিকয়েড থেরাপী দরকার এমন স্বল্প তীব্রতার রােগের ক্ষেত্রে এই উপায়ে চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে। বেশী তীব্রতার রোগের ক্ষেত্র প্রাথমিক চিকিৎসায় উচ্চমাত্রা বিভাজিত মাত্রায় প্রযােজ্য। প্রাবম্ভিক সাপ্রেসিভ মাত্রা আশানুরুপ ক্লিনিক্যাল রেসপন্স না পাওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে, এ্যালার্জি ও কোলাজেন রােগের ক্ষেত্রে সাধারণত ৪.১০ দিন যাবৎ চলবে।