যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো mRNA প্রযুক্তির ফ্লু টিকা অনুমোদন পেয়েছে। মডার্নার তৈরি এই টিকার নাম mFlusiva। কোভিড টিকার মতোই এটি mRNA প্রযুক্তি ব্যবহার করে বানানো হয়েছে। তবে এই টিকা সবার জন্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) গত আগস্ট মাসে ৫০ বছর ও তার বেশি বয়সীদের জন্য এই টিকা অনুমোদন দিয়েছে। এখন ফার্মেসিগুলোতে টিকাটি পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখনো বাংলাদেশে এই টিকা আসেনি।
কে এই টিকা নিতে পারবেন?
এই টিকা শুধু ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য। আপনার বয়স যদি ৫০-এর নিচে হয়, তাহলে এই টিকা আপনার জন্য নয়।
ওহাইওর একজন ফার্মাসিস্ট এমলাহ টুবুও বলেছেন, “যদি আপনি এখনো ৫০তম জন্মদিন না পালন করে থাকেন, তাহলে এই টিকা আপনার আগ্রহের বিষয় নয়।”
যারা mRNA টিকা নিতে চান না, তারা আগের মতো সাধারণ ফ্লু টিকা নিতে পারবেন।
৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের জন্য FDA সম্পূর্ণ অনুমোদন দিয়েছে। আর ৬৫ বছর ও তার বেশি বয়সীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দিয়েছে। মডার্নাকে এই বয়সী মানুষের ওপর আরও একটি ট্রায়াল করতে হবে।
mRNA টিকা আর সাধারণ ফ্লু টিকার পার্থক্য কী?
সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শেখানোর পদ্ধতিতে।
- সাধারণ ফ্লু টিকা সাধারণত নিষ্ক্রিয় ভাইরাস ব্যবহার করে, যা প্রায়ই ডিমে তৈরি করা হয়।
- mFlusiva জিনগত কোডের একটি ছোট অংশ ব্যবহার করে শরীরকে ফ্লু ভাইরাস চিনতে ও লড়াই করতে শেখায়।
টিকার mRNA শরীরে স্থায়ী হয় না। কাজ শেষে তা ভেঙে যায়।
টুবু বলেন, “এটি আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে একটি সাময়িক নির্দেশনা দেয়, যাতে শরীর ফ্লু ভাইরাস চিনতে পারে।” টিকা নেওয়ার পর শরীরে সুরক্ষা তৈরি হতে প্রায় দুই সপ্তাহ লাগে।
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, এই টিকা কি কোভিড থেকেও রক্ষা করে? উত্তর হলো না। এটি শুধু ফ্লু ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে।
এছাড়া সাধারণ ফ্লু টিকার মতো এটিও একটি ট্রাইভ্যালেন্ট টিকা। এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা A-এর দুটি স্ট্রেইন এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা B-এর একটি স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।
আরেকটি বড় সুবিধা হলো এটি দ্রুত তৈরি করা যায়। সাধারণ ফ্লু টিকা তৈরি করতে প্রায় ছয় মাস লাগে, কিন্তু mFlusiva দুই থেকে তিন মাসেই তৈরি করা যায়।
টিকাটি কি নিরাপদ ও কার্যকর?
একটি বড় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ১১টি দেশের ৪০ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নিয়েছিলেন। ফলাফলে দেখা গেছে, সাধারণ ফ্লু টিকার চেয়ে mFlusiva প্রায় ২৭% বেশি কার্যকর।
FDA পর্যালোচনায় টিকাটির কোনো গুরুতর নিরাপত্তা সমস্যা পাওয়া যায়নি।
তবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন:
- ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা
- ক্লান্তি
- মাথাব্যথা
এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি প্রকৃতির হয়। ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উইলিয়াম শ্যাফনার বলেন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার বেশি হওয়া আসলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ারই প্রকাশ।