বাংলাদেশে PFAS এক্সপোজার এবং ক্যান্সার: নতুন গবেষণা কী বলছে — CloudRx Blog | CloudRx
বাংলাদেশে PFAS এক্সপোজার এবং ক্যান্সার: নতুন গবেষণা কী বলছে
News Sep 05, 2026 · CloudRx Team

বাংলাদেশে PFAS এক্সপোজার এবং ক্যান্সার: নতুন গবেষণা কী বলছে

আমেরিকার নতুন একটি গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, PFAS রাসায়নিক পদার্থ লিভার ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

PFAS কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

PFAS (পার- এবং পলিফ্লুরোঅ্যালকাইল পদার্থ) হলো এক ধরনের কৃত্রিম রাসায়নিক, যা ব্যবহৃত হয় নন-স্টিক রান্নার বাসন, দাগ-প্রতিরোধী কাপড় এবং খাদ্য প্যাকেজিংয়ে। এগুলো পরিবেশে খুব ধীরে ভাঙে, তাই এদের বলা হয় 'ফরএভার কেমিক্যাল'। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় সব আমেরিকান নাগরিকের রক্তে এই রাসায়নিকের উপস্থিতি রয়েছে এবং দেশটির প্রায় অর্ধেক পাবলিক ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেমে PFAS পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশেও খাদ্য প্যাকেজিং, রান্নার বাসন এবং কিছু শিল্পপণ্যের মাধ্যমে PFAS-এর সংস্পর্শে আসা সম্ভব। তবে এ বিষয়ে দেশে এখনো তেমন বড় গবেষণা হয়নি।

নতুন গবেষণা কী বলছে?

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (NIH) থেকে ৭৫ লক্ষ ডলারের অনুদান পেয়েছে কেক স্কুল অব মেডিসিন ও ইউএসসি নরিস কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টারের গবেষকরা। তারা তদন্ত করবেন, PFAS-এর সংস্পর্শে আসার কারণে লিভার ক্যান্সার (হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা) এবং এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার (জরায়ুর আস্তরণের ক্যান্সার) হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে কি না।

এই গবেষণার একটি অংশ এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার নিয়ে, যার জন্য ২০২৬ সালের জুনে ৪১ লক্ষ ডলার বরাদ্দ হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রসপেক্টিভ স্টাডি হতে চলেছে, যেখানে রোগ নির্ণয়ের আগেই রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে PFAS-এর মাত্রা মাপা হবে।

কীভাবে গবেষণাটি পরিচালিত হবে?

গবেষকরা দুটি বড় দীর্ঘমেয়াদি স্টাডির ডেটা ব্যবহার করবেন: মাল্টিইথনিক কোহর্ট স্টাডি (দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াই) এবং সাউদার্ন কমিউনিটি কোহর্ট স্টাডি (যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল)। এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের ক্ষেত্রে, তারা ৬০০ জন নারীর প্রি-ডায়াগনস্টিক রক্তের নমুনা পরীক্ষা করবেন যাদের পরে ক্যান্সার হয়েছে, এবং ১,২০০ জন সুস্থ নারীর সঙ্গে তুলনা করবেন।

লিভার ক্যান্সারের জন্য তারা মানব লিভার স্ফেরয়েড (তিন মাত্রার ল্যাব মডেল) ব্যবহার করবেন, যা দাতাদের কোষ থেকে তৈরি। এই মডেলগুলোকে বিভিন্ন মাত্রায় এবং মিশ্রণে PFAS-এর সংস্পর্শে আনা হবে, যা বাস্তব জীবনের এক্সপোজার প্যাটার্নের মতো।

কেন এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ?

পূর্বের গবেষণায় PFAS-এর সঙ্গে লিভারের ক্ষতি, কিডনি রোগ এবং কিছু ক্যান্সারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে, কিন্তু কীভাবে এই সম্পর্ক তৈরি হয় তা স্পষ্ট ছিল না। এই নতুন গবেষণার লক্ষ্য সেই ব্যবধান পূরণ করা। রোগ নির্ণয়ের আগে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করায় গবেষকরা নিশ্চিত হতে পারবেন যে PFAS এক্সপোজারটি ক্যান্সারের আগে ঘটেছে, পরে নয়। এটি গবেষণার নির্ভরযোগ্যতা বাড়ায়।

এছাড়া, গবেষকরা দেখবেন কীভাবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা, যেমন খাদ্যের প্রবেশাধিকার, আয় এবং এলাকার বৈশিষ্ট্য PFAS এক্সপোজারের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। যারা 'ফুড ডেজার্টে' (যেখানে তাজা খাবার সহজলভ্য নয়) বাস করেন, তারা বেশি প্যাকেটজাত বা ফাস্ট ফুডের উপর নির্ভরশীল হতে পারেন, ফলে PFAS এক্সপোজারের ধরন ভিন্ন হতে পারে।

লিভার ক্যান্সারের প্রসঙ্গ

লিভার ক্যান্সার (HCC) বিশ্বব্যাপী একটি উদ্বেগজনক রোগ। আগে হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণই প্রধান কারণ ছিল, কিন্তু ভ্যাকসিন ও অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসার উন্নতির কারণে এখন সেই সংখ্যা কমেছে। বদলে মোটা হওয়া, ফ্যাটি লিভার এবং মেটাবলিক সমস্যার কারণে লিভার ক্যান্সার বাড়ছে। ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে, কিছু PFAS লিভারের কোষে চর্বি জমাতে পারে এবং ক্যান্সার-সম্পর্কিত পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এই গবেষণায় সেই প্রক্রিয়াটি বিস্তারিত বোঝার চেষ্টা করা হবে।

বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা

বাংলাদেশে খাদ্য প্যাকেজিং, রান্নার বাসন এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্যে PFAS থাকতে পারে, তবে এ বিষয়ে সচেতনতা কম। যদিও এই গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রে হচ্ছে, এর ফলাফল বিশ্বব্যাপী প্রযোজ্য হতে পারে। কারণ PFAS পরিবেশে স্থায়ী এবং খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, PFAS-এর ঝুঁকি কমাতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে, যেমন নন-স্টিক বাসনের বদলে স্টেইনলেস স্টিল বা কাস্ট আয়রন ব্যবহার, প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া এবং প্যাকেটজাত খাবারের ব্যবহার কমানো। তবে এ বিষয়ে কোনো কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

সতর্কতা ও পরামর্শ

গবেষণাটি এখনো চলমান, এবং চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ হতে বেশ কয়েক বছর লাগতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা জরুরি। ক্যান্সার বা অন্য কোনো রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ থাকলে অবশ্যই একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে, কোনো রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।

ভবিষ্যতে এই গবেষণার ফলাফল আমাদের পরিবেশ ও স্বাস্থ্য নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। তাই বিষয়টির উপর নজর রাখুন এবং নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন থাকুন।

Share this article: