স্তন ক্যান্সার সচেতনতা: কী দেখবেন, কী করবেন — CloudRx Blog | CloudRx
স্তন ক্যান্সার সচেতনতা: কী দেখবেন, কী করবেন
Health Tips Aug 28, 2026 · CloudRx Team

স্তন ক্যান্সার সচেতনতা: কী দেখবেন, কী করবেন

স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ, পরীক্ষা এবং কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন তা জানুন সহজ ভাষায়।

স্তন ক্যান্সার: ভয় নয়, সচেতনতাই আসল অস্ত্র

স্তন ক্যান্সার শুনলেই অনেকের মনে ভয় ঢুকে যায়। কিন্তু সঠিক সময়ে জানতে পারলে এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব। বাংলাদেশে প্রতি বছর অনেক নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, কিন্তু সচেতনতার অভাবে অনেক সময় রোগ ধরা পড়ে দেরিতে। তাই আজ আমরা সহজ ভাষায় জানবো স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ, কীভাবে নিজে নিজে পরীক্ষা করবেন, কী কী পরীক্ষা করাতে হবে এবং কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী?

স্তন ক্যান্সারের কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে যা দেখলে সতর্ক হওয়া উচিত। তবে মনে রাখবেন, এই লক্ষণগুলোর মানেই যে ক্যান্সার হয়েছে তা নয়। অনেক সময় সাধারণ কারণেও এগুলো হতে পারে। তবুও লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  • স্তনে পিণ্ড বা চাকা: স্তনের ভেতরে বা বগলের কাছে কোনো শক্ত পিণ্ড অনুভব করলে তা উপেক্ষা করবেন না। এটি সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ।
  • স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন: একটি স্তন হঠাৎ বড় বা ছোট হয়ে যাওয়া, বা স্বাভাবিক আকৃতি বদলে যাওয়া।
  • স্তনের ত্বকের পরিবর্তন: ত্বকে ডিম্পল পড়া (কমলার খোসার মতো), লালচে ভাব, চুলকানি বা ঘা হওয়া।
  • স্তনের বোঁটা (নিপল) পরিবর্তন: বোঁটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া, বোঁটা থেকে রক্ত বা পানি পড়া, বা বোঁটার চামড়া খসখসে হওয়া।
  • ব্যথা: স্তনে বা বগলে অব্যক্ত ব্যথা যা দীর্ঘদিন ধরে থাকে।
  • বগলে ফোলা: বগলের লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া বা পিণ্ড অনুভব করা।

এই লক্ষণগুলোর কোনো একটি যদি ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা (ব্রেস্ট সেলফ-এক্সাম)

প্রতি মাসে মাসিকের ৫ থেকে ৭ দিন পর নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করা খুবই ভালো অভ্যাস। এই সময় স্তনে কোনো পরিবর্তন সহজে ধরা পড়ে। কীভাবে করবেন? খুব সহজ:

ধাপ ১: আয়নার সামনে

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দুটি স্তন ভালোভাবে দেখুন। হাত দুটি কোমরে রেখে, তারপর মাথার উপরে তুলে দেখুন। লক্ষ্য করুন আকার, আকৃতি, ত্বকের রং বা চামড়ায় কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা।

ধাপ ২: শুয়ে পরীক্ষা

চিৎ হয়ে শুয়ে ডান হাত মাথার নিচে রাখুন। বাম হাতের আঙুলের ডগা দিয়ে ডান স্তনে বৃত্তাকারে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চাপ দিয়ে দেখুন কোনো পিণ্ড আছে কিনা। একইভাবে অন্য স্তন পরীক্ষা করুন।

ধাপ ৩: বগল পরীক্ষা

বগলের দিকেও হাত দিয়ে পরীক্ষা করুন, কারণ সেখানেও লিম্ফ নোড ফুলে যেতে পারে।

মনে রাখবেন, নিজে নিজে পরীক্ষা করলে ডাক্তারি পরীক্ষার বিকল্প হয় না, তবে এটি সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে। কোনো অস্বাভাবিকতা পেলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যান।

কী কী পরীক্ষা করাতে হবে?

যদি কোনো লক্ষণ দেখা যায় বা ডাক্তার সন্দেহ করেন, তাহলে কিছু পরীক্ষা করা হয়। এখানে সাধারণ কিছু পরীক্ষার কথা উল্লেখ করা হলো:

  • ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সাম: ডাক্তার হাত দিয়ে স্তন ও বগল পরীক্ষা করেন।
  • ম্যামোগ্রাম: এটি স্তনের এক্স-রে। স্তনে কোনো অস্বাভাবিকতা বা পিণ্ড আছে কিনা তা সনাক্ত করতে সাহায্য করে। ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের জন্য প্রতি ১-২ বছর পরপর ম্যামোগ্রাম করানো বাঞ্ছনীয়।
  • আল্ট্রাসাউন্ড: ম্যামোগ্রামের ফলাফল অস্পষ্ট হলে বা অল্প বয়সে (স্তন ঘন হলে) আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়। এটি পিণ্ডটি সলিড নাকি তরল-filled (সিস্ট) তা বুঝতে সাহায্য করে।
  • বায়োপসি: যদি পিণ্ডটি সন্দেহজনক হয়, তাহলে ডাক্তার একটি ছোট অংশ বা সম্পূর্ণ পিণ্ডটি পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান। এটি নিশ্চিত করে যে ক্যান্সার কোষ আছে কিনা।

এই পরীক্ষাগুলো করাতে ভয় পাবেন না। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ এবং সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

নিচের যেকোনো একটি পরিস্থিতিতে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন:

  • স্তনে বা বগলে নতুন কোনো পিণ্ড অনুভব করলে।
  • স্তনের চামড়ায় বা বোঁটায় কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে।
  • স্তন থেকে অস্বাভাবিক স্রাব হলে।
  • স্তনে দীর্ঘদিন ব্যথা থাকলে।
  • পরিবারে (মা, বোন, খালা) কারও স্তন বা ওভারিয়ান ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে।

এছাড়া ৪০ বছরের বেশি বয়সী প্রতিটি নারীর উচিত নিয়মিত (প্রতি ১-২ বছর) ম্যামোগ্রাম করানো, এমনকি কোনো লক্ষণ না থাকলেও। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার কোনো লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে।

সচেতনতাই প্রতিরোধের প্রথম ধাপ

স্তন ক্যান্সার নিয়ে কথা বলতে লজ্জা বা ভয়ের কিছু নেই। এটি একটি রোগ, এবং রোগ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করলে সচেতনতা বাড়ে। নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন থাকুন, নিয়মিত পরীক্ষা করান, এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যান। মনে রাখবেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।

এই লেখাটি শুধুমাত্র সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার সুস্থতাই আমাদের কামনা।

Share this article: